টানা ৪০ দিন জামাতে নামাজ আদায় করায় শিশু-কিশোরদের পুরস্কার হিসেবে বাইসাইকেল বিতরণ
নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার পূর্ব চরবাটা গ্রামে টানা ৪০ দিন জামাতে নামাজ আদায়ের প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া ২১ জন শিশু-কিশোরকে বাইসাইকেল এবং আরও ২৯ জনকে বিভিন্ন উপহার দেওয়া হয়েছে। এটি স্থানীয় মসজিদ পরিচালনা কমিটির একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ, যা শিশু-কিশোরদের নিয়মিত নামাজের প্রতি উদ্বুদ্ধ করতে নেওয়া হয়েছে।
পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান
শনিবার (১ মার্চ) সকালে পূর্ব চরবাটা ইউনিয়নের হাজী আব্দুর রশিদ জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে এই পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষাবিদ, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ এবং অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।
পুরস্কারপ্রাপ্ত কিশোর মো. সিয়াম বলেন,
“এই প্রতিযোগিতা আমাদের নিয়মিত জামাতে নামাজ পড়ার অনুপ্রেরণা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এখন আমরা শুধু পুরস্কারের জন্য নয়, বরং অভ্যাস হিসেবে নিয়মিত নামাজ পড়ার চেষ্টা করবো।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তারা এই ধরনের উদ্যোগকে প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করেন এবং ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে আয়োজন করার আহ্বান জানান।
উদ্যোগের লক্ষ্য ও পরিকল্পনা
এই প্রতিযোগিতার অন্যতম সমন্বয়ক ও পূর্ব চরবাটা স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেন,
“শিশু-কিশোরদের নিয়মিত নামাজের প্রতি উৎসাহিত করাই আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য। তাদের ধর্মীয় অনুশাসন ও নৈতিক মূল্যবোধ গড়ে তোলার জন্য আমরা এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছি। আগামী বছর আরও বেশি শিশু-কিশোরকে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।”
তিনি আরও জানান, প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে যারা টানা ৪০ দিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতে আদায় করতে সক্ষম হয়েছেন, তাদের মধ্যে ২১ জনকে বাইসাইকেল এবং আরও ২৯ জনকে বিভিন্ন শিক্ষামূলক উপহার যেমন কিতাব, জায়নামাজ, ইসলামিক বই এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী দেওয়া হয়েছে।
ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের মতামত
হাজী আব্দুর রশিদ জামে মসজিদের খতিব ও চরবাটা ইসমাইলিয়া ফাযিল মাদ্রাসার প্রভাষক মো. ফয়েজ উল্যাহ বলেন,
“এ ধরনের উদ্যোগ যদি প্রতিটি সমাজ ও গ্রামে নেওয়া হয়, তাহলে আমাদের নতুন প্রজন্ম নামাজের প্রতি আরও আগ্রহী হবে। পাশাপাশি সমাজ থেকে অপরাধ প্রবণতা, কিশোর গ্যাং সংস্কৃতি এবং অনৈতিক কার্যকলাপ কমে আসবে।”
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন:
- সুবর্ণচর উপজেলা মসজিদ মিশনের সভাপতি মাওলানা আহছান উল্যাহ
- পূর্ব চরবাটা স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ ছালেহ উদ্দিন
- চরবাটা ইসমাইলিয়া ফাযিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মোজাম্মেল হোসেন
- ব্রাক ব্যাংক মাইজদী শাখার ব্যবস্থাপক সাইদুজ্জামান সুজন
- চরজব্বার রাব্বানী ফাযিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক মাওলানা দাউদ হোসাইন
- পূর্ব চরবাটা স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক মোহাম্মদ আনিছুর রহমান
- চরবাটা রামগোবিন্দ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোহাম্মদ এনামুল হক
- সুবর্ণচর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ
- ছমির হাট আল ফালাহ একাডেমির শিক্ষক নেওয়ামত উল্যাহ
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও প্রতিক্রিয়া
এ ধরনের উদ্যোগ শিশু-কিশোরদের ধর্মীয় শিক্ষা ও শৃঙ্খলা মেনে চলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন আয়োজকরা। ভবিষ্যতে এ প্রতিযোগিতা আরও বড় পরিসরে আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে আরও বেশি শিশু-কিশোর নামাজের প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠে।
অভিভাবক ও স্থানীয়রা এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন এবং এটি অন্য এলাকাগুলোর জন্যও একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলে মনে করছেন।
এই ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে সমাজের নৈতিক উন্নয়ন সম্ভব এবং ধর্মীয় শিক্ষার প্রতি শিশু-কিশোরদের আগ্রহ বাড়ানো যাবে।