বাংলাদেশ
Trending

গাড়িতে ৩৭ লাখ টাকা, প্রকৌশলীর দাবি ‘এটি ঘুষের টাকা নয়’

নাটোরের সিংড়ায় পুলিশের চেকপোস্টে একটি প্রাইভেট কারে তল্লাশি চালিয়ে ৩৬ লাখ ৯৪ হাজার টাকা জব্দ করা হয়েছে। ওই গাড়িতে থাকা গাইবান্ধা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সাবিউল ইসলামকে আটক করে পুলিশ এবং বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

টাকা উদ্ধারের ঘটনা

বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) গভীর রাতে নাটোর-বগুড়া মহাসড়কের চলনবিল গেট এলাকায় পুলিশের ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ অভিযানের অংশ হিসেবে একটি চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়। পুলিশের একটি বিশেষ টহল দল সেখানে দায়িত্ব পালন করছিল। চেকপোস্টের সময় একটি সন্দেহজনক প্রাইভেট কার থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। গাড়ির পেছনের ডালায় রাখা ব্যাগগুলোর মধ্যে থেকে ৩৬ লাখ ৯৪ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। এই বিপুল পরিমাণ টাকা দেখে পুলিশের সন্দেহ হয় এবং গাড়িতে থাকা প্রকৌশলী সাবিউল ইসলামকে হেফাজতে নেওয়া হয়।

প্রকৌশলীর বক্তব্য

সাবিউল ইসলাম পুলিশের কাছে দাবি করেছেন, তিনি জমি বিক্রির টাকা নিয়ে রাজশাহীর নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এটি কোনো ঘুষ বা অনৈতিক লেনদেনের টাকা নয়, বরং জমি বিক্রির বৈধ অর্থ। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তিনি জমি বিক্রির প্রমাণ বা উপযুক্ত কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।

অভিযোগ ও তদন্তের অগ্রগতি

এদিকে, গাইবান্ধা এলজিইডি অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তা পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছেন যে, প্রকৌশলী সাবিউল ইসলাম নিয়মিত ঘুষের মাধ্যমে অবৈধ অর্থ আয় করেন। তারা দাবি করেন, প্রতি সপ্তাহে তিনি অফিসের কাজ শেষে ‘ঘুষের টাকা’ সংগ্রহ করে বাড়িতে নিয়ে যান। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, উদ্ধারকৃত অর্থ প্রকৌশলীর অনিয়মিত লেনদেনের একটি অংশ হতে পারে।

পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে এবং প্রকৌশলী সাবিউল ইসলামের দেওয়া তথ্যের সত্যতা যাচাই করছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যদি তিনি বৈধ উপায়ে এই টাকা অর্জন করে থাকেন, তবে যথাযথ নথিপত্র দেখানোর মাধ্যমে তিনি নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে পারবেন। তবে এখন পর্যন্ত তিনি তার দাবির পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি।

দুদককে অবহিত করা হয়েছে

পুলিশ সুপার একরামুল হক জানিয়েছেন, বিষয়টি আরও গভীরভাবে তদন্ত করার জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-কে জানানো হয়েছে। দুদকের একটি বিশেষ দল ঘটনাটি অনুসন্ধান করবে এবং প্রকৌশলীর সম্পদের উৎস সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করবে।

সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া

এমন ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তাদের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে। অনেকেই মনে করছেন, যদি প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে অভিযোগ সত্যি হয়, তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। অন্যদিকে, প্রকৌশলী যদি প্রকৃতপক্ষে নির্দোষ হন, তবে তার প্রমাণ দেওয়ার সুযোগও রাখা উচিত বলে মত দিয়েছেন অনেকে।

প্রকৌশলীর দাবি পুনরায়

সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে প্রকৌশলী সাবিউল ইসলাম আবারও জোর দিয়ে বলেন, “আমি জমি বিক্রির টাকা নিয়ে বাড়ি ফিরছিলাম। এটি কোনো ঘুষ বা কমিশনের টাকা নয়। আমি আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই বিষয়টি প্রমাণ করবো।”

তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রকৌশলীর বক্তব্য কতটুকু সত্য তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। বর্তমানে পুলিশ এবং দুর্নীতি দমন কমিশন বিষয়টি খতিয়ে দেখছে, এবং প্রকৃত সত্য উদঘাটনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button