যুক্তরাষ্ট্র দেউলিয়া হওয়ার ঝুঁকিতে: ইলন মাস্কের সতর্কবার্তা
সরকার পরিচালনার ব্যয় কমানো না হলে যুক্তরাষ্ট্র দেউলিয়া হয়ে যাবে—এমন সতর্কবার্তা দিয়েছেন ইলন মাস্ক। ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে এ মন্তব্য করেন তিনি। সরকারের দক্ষতা বিষয়ক দফতর, ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট এফিসিয়েন্সির প্রধান হিসেবে মাস্ক কেন্দ্রীয় প্রশাসনের ব্যয় সংকোচনের ওপর জোর দেন।
বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) হোয়াইট হাউসে আয়োজিত বৈঠকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সরকার পরিচালনার ব্যয় কমানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠেন তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ইলন মাস্ক। অন্যান্য মন্ত্রীরা সুশৃঙ্খল পোশাকে উপস্থিত থাকলেও মাস্ক বৈঠকে অংশ নেন কালো রঙের একটি টি-শার্ট পরে, যার পেছনে লেখা ছিল ‘Tech Support’। তিনি সরকারি কর্মীবহর কমানোর পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বলেন, “যদি ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো না হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।”
মাস্কের প্রভাব ট্রাম্প প্রশাসনে কতটা বিস্তৃত, তা এ বৈঠকের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। যদিও তিনি মন্ত্রিসভার কোনো আনুষ্ঠানিক সদস্য নন, বৈঠকে অংশ নিয়ে নিজেকে প্রশাসনের একজন নগণ্য প্রযুক্তিগত সহায়তাকারী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন। পাশাপাশি জানান, তিনি প্রাণনাশের হুমকি পাচ্ছেন।
অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যেসব গণমাধ্যম বা লেখক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্র ব্যবহার করবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘সোশ্যাল ট্রুথ’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, “বেনামি সূত্র এবং ‘অফ দ্য রেকর্ড’ উদ্ধৃতি দিয়ে অনেক ভুয়া বই ও গল্প প্রকাশিত হচ্ছে।”
তার এই মন্তব্য মার্কিন সাংবাদিক মাইকেল উলফের নতুন বই “অল অর নাথিং: হাউ ট্রাম্প রিক্যাপচারড আমেরিকা” প্রকাশের পর আসে। এছাড়া, ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন মিডিয়া নীতির অংশ হিসেবে এপি, রয়টার্সসহ বেশ কয়েকটি সংবাদ সংস্থার সাংবাদিকদের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক কভার করতে দেওয়া হয়নি। বাদ পড়া সংবাদ সংস্থাগুলো এই সিদ্ধান্তকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পরিপন্থী বলে অভিহিত করেছে।