বাংলাদেশ

মাছ ধরতে এসে ইঁদুর মারার ফাঁদে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ভারতীয় যুবকের মৃত্যু

সুনামগঞ্জের সীমান্তবর্তী দোয়ারাবাজার উপজেলায় মাছ ধরতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়েছে সারভেস মারাখ (২৮) নামের এক ভারতীয় যুবকের। তিনি বাংলাদেশে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করেছিলেন বলে জানা গেছে।

দুর্ঘটনার স্থান ও সময়

সোমবার (৩১ মার্চ) দুপুর আড়াইটার দিকে দোয়ারাবাজার সদর ইউনিয়নের টেবলাই গ্রামে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সারভেস মারাখ ভারতের মেঘালয় রাজ্যের শিলং জেলার চেলা গবিন মারাখের ছেলে।

কীভাবে ঘটল এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা?

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী—

  • সীমান্তবর্তী এলাকায় একটি ছড়ায় (ছোট জলধারা) মাছ ধরতে ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন সারভেস মারাখ।
  • মাছ ধরার জন্য উপযুক্ত স্থান খুঁজতে গিয়ে তিনি কৃষিজমির পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন।
  • ওই জমির মালিক স্থানীয় কৃষক বশির আহমেদ। তার ফসলি জমিতে ইঁদুর দমন করার জন্য বৈদ্যুতিক ফাঁদ পাতা ছিল।
  • কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই ফাঁদে পা দিতেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান সারভেস মারাখ।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর গ্রামবাসীরা দ্রুত পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। স্থানীয়রা জানান, সীমান্ত এলাকায় প্রায়ই ভারতীয়রা মাছ ধরতে আসে এবং অনেক সময় তারা বাংলাদেশের জমিতে প্রবেশ করে। তবে, এত বড় দুর্ঘটনা আগে ঘটেনি।

একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন—

“আমরা আগে কখনো এমন ঘটনা দেখিনি। সাধারণত ভারতীয়রা মাছ ধরার জন্য ছড়ায় আসে, কিন্তু এবার এভাবে মৃত্যু হবে ভাবতে পারিনি। ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য প্রশাসনের উচিত আরও সতর্ক হওয়া।”

পুলিশের বক্তব্য

দোয়ারাবাজার থানার ওসি (তদন্ত) সামছ উদ্দিন বলেন—

“প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ভারতীয় ওই যুবক মাছ ধরতে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছিলেন। পরে ইঁদুর মারার জন্য পেতে রাখা বিদ্যুতের ফাঁদে জড়িয়ে তার মৃত্যু হয়। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন—

“সীমান্ত এলাকায় অনুপ্রবেশজনিত সমস্যার কারণে এমন ঘটনা ঘটতে পারে। এ বিষয়ে উভয় দেশের সীমান্ত রক্ষীদের আরও সতর্ক হতে হবে।”

সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তার প্রশ্ন

এই দুর্ঘটনা বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে অনুপ্রবেশ ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, সীমান্তবর্তী এলাকার লোকজন অনায়াসেই পারাপার করে। বিশেষ করে, মাছ ধরা, গবাদি পশু চরানো বা জ্বালানি কাঠ সংগ্রহের মতো কাজ করতে গিয়ে অনেকে অবৈধভাবে এক দেশ থেকে আরেক দেশে প্রবেশ করে।

তবে, বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অনুপ্রবেশের কারণে উভয় দেশের নাগরিকদের জন্য বিপদের আশঙ্কা তৈরি হয়। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একজন মানুষের মৃত্যু নিঃসন্দেহে দুঃখজনক, তবে এটি ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করার জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করতে পারে।

👉 প্রশাসনের উচিত সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা এবং স্থানীয়দের সচেতন করা, যাতে ভবিষ্যতে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা আর না ঘটে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button