ইফতারে ঠান্ডা পানি, শরবত বা কমলা খাওয়া কি বিপজ্জনক? বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন
রমজানে দীর্ঘক্ষণ উপবাস থাকার পর ইফতারের সময় আমরা তীব্র ক্ষুধা অনুভব করি, যা স্বাভাবিক। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার কারণে ইফতারের খাবার নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ভুল খাবার গ্রহণ করলে তাৎক্ষণিকভাবে অ্যাসিডিটি, পেট ব্যথা, বুক জ্বালাপোড়া কিংবা দীর্ঘমেয়াদে জটিল রোগের কারণ হতে পারে। এমনকি কিছু কিছু খাবার দীর্ঘমেয়াদে ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই ইফতারের খাবার নির্বাচনে সচেতন হওয়া জরুরি। আসুন জেনে নিই, কোন কোন খাবার ইফতারের সময় খালি পেটে খাওয়া উচিত নয়।
ঠান্ডা পানি বা শরবত: হজমের শত্রু
ইফতারে অনেকেই গরমের কারণে ঠান্ডা পানি বা শরবত পান করতে পছন্দ করেন। কিন্তু খালি পেটে একেবারে ঠান্ডা পানীয় পান করলে তা হজম প্রক্রিয়ার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। এটি হজমের গতি মন্থর করে এবং বিপাক ক্রিয়াকে ব্যাহত করে।
ঠান্ডা পানীয় পান করলে গলা ও শ্বাসযন্ত্রের সংবেদনশীল অংশে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে, যার ফলে সর্দি-কাশি, গলা ব্যথা এবং ফুসফুসের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই শরীরের জন্য নিরাপদ হচ্ছে স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি বা শরবত পান করা।
সাইট্রাস ফল: অ্যাসিডিটির ঝুঁকি
কমলা, লেবু, মুসুম্বি ইত্যাদি সাইট্রাস জাতীয় ফলে প্রচুর পরিমাণে অ্যাসিড থাকে। খালি পেটে এসব ফল খেলে পেটে অতিরিক্ত অ্যাসিড তৈরি হয়, যা অ্যাসিডিটি, বুক জ্বালাপোড়া এবং হজমের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। সাইট্রাস ফলের উচ্চমাত্রার ফ্রুক্টোজ হজম প্রক্রিয়াকে মন্থর করে এবং দীর্ঘমেয়াদে গ্যাস্ট্রিক বা আলসারের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই ইফতারের সময় কমলালেবু ও অন্যান্য সাইট্রাস জাতীয় ফল বা জুস এড়িয়ে চলাই ভালো।
তৈলাক্ত খাবার: গ্যাস ও হজমের সমস্যার কারণ
বাংলাদেশে ইফতারে নানা ধরনের ভাজাপোড়া যেমন— পেঁয়াজু, বেগুনি, চপ, সমুচা খাওয়ার প্রচলন রয়েছে। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকার পর অতিরিক্ত তৈলাক্ত খাবার খেলে তা হজমে সমস্যা সৃষ্টি করে, পেটে গ্যাস, মাথাব্যথা, অবসাদ এবং পাকস্থলীর প্রদাহ বাড়িয়ে তোলে।
গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত তৈলাক্ত খাবার খাওয়ার ফলে পেটে মেদ জমতে পারে এবং এটি ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই ইফতারে বেশি তৈলাক্ত খাবার পরিহার করা উচিত।
চা ও কফি: বিপজ্জনক অভ্যাস
অনেকেই ইফতারের পর চা বা কফি পান করেন, যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘক্ষণ খালি পেটে থাকার পর ভারী খাবার খাওয়ার পরপরই চা বা কফি পান করলে পাকস্থলীতে অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে যায়। এতে হজমে সমস্যা হয়, রক্তে শর্করার ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে এবং যকৃত ও অগ্ন্যাশয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এটি পাকস্থলীর আলসার বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। তাই ইফতারের পরপর চা বা কফি না খেয়ে অন্তত ৩০-৪৫ মিনিট অপেক্ষা করা ভালো।
ইফতারে কী খাবেন? বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
ইফতারে স্বাস্থ্যকর ও সহজপাচ্য খাবার রাখা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইফতারে খেজুর, সুষম খাবার, ইসবগুলের শরবত, দই এবং বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি গ্রহণ করা উত্তম। এসব খাবার শরীরে শক্তি যোগায়, হজম প্রক্রিয়াকে সহায়তা করে এবং দীর্ঘসময় সুস্থ থাকতে সাহায্য করে।
সতর্ক থাকুন, সুস্থ থাকুন
ইফতারের সময় সঠিক খাবার বেছে নিলে আপনি শুধু তাৎক্ষণিক আরামই পাবেন না, বরং দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ থাকবেন। তাই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মেনে চলুন, ইফতারে সঠিক খাবার গ্রহণ করুন এবং শরীরকে সুস্থ রাখুন।